২৬শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ১:১৬
ব্রেকিংনিউজ
সাংবাদিক হোসাইনের পিতার ইন্তেকাল, প্রেসক্লাবসহ সুধীজনদের শোকপ্রকাশ কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি আনছার উদ্দিনের ঈদ শুভেচ্ছা ঈদে শপিং করে ফেরার পথে স্পিডবোট ডুবে মা-মেয়ের মৃত্যু পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নূর কালামের ঈদ শুভেচ্ছা পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুর রহমান শহিদের ঈদ শুভেচ্ছা দ. সুনামগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সুহেল মিয়ার ঈদ শুভেচ্ছা দ. সুনামগঞ্জ মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি ও আফাজল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. শাকিল মুরাদ আফজলের ঈদ শুভেচ্ছা আফজল ফাউন্ডেশন যাকাতের শাড়ি পেলেন ৯০ জন দুঃস্থ নারী যুক্তরাজ্য প্রবাসী এহসান মির্জার ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা বিনিময় ফ্রান্স প্রবাসী ক্রিড়াবিদ আতিকুর রহমানের ঈদ শুভেচ্ছা

অনিয়ম-দুর্নীতির বরপুত্র শ্রীপুর উত্তর ইউপির ভূমি অফিসের তহসিলদার রঞ্জন

মহাসিং ডেস্ক
  • আপডেট : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১৫৩ বার পঠিত

তাহিরপুর প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় অনিয়ম,ঘুষ- দুর্নীতির বরপুত্র হিসাবে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার রঞ্জন কুমার দাশ। তিনি অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করে সরকারী নিদর্শনাকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে নামজারি(নাম খারিজ),ডিসিআর,দাখিলার ও খাজনার জন্য আলাদা আলাদা অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে ।
ভুমি উন্নয়ন করের রসিদ সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়েও অতিরিক্ত টাকা আদায় করলেও রশিদ দেয়া হয় সরকারি হিসাবে। এভাবেই লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ঐ কর্মকর্তা। ফলে জনসম্পৃক্ত অতিগুরুত্বপূর্ণ এই খাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে দীর্ঘ দিন ধরে।

সরজমিন বিভিন্ন অভিযোগের সূত্র ধরে শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন ভূমি অফিস যান দুজন সাংবাদিক সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরেজমিনে গেলে ঘুষ-দুর্নীতির খণ্ড খণ্ড চিত্র চোখে পড়ে। জমির খাজনা নিচ্ছেন ১৬হাজার রশিদ দিচ্ছেন ২ হাজার টাকার। প্রায় ৫০টিরও বেশি রশিদে গড়মিল। এভাবে প্রতিদিনেই দুর্নীতি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা(তহসিলদার)রঞ্জন কুমার দাস।এছাড়াও অনিয়মের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের সাথেও করেন চরম দূব্যবহার। এসব বিষয়ে অবগত করা হয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে দুর্নীতির সর্গ রাজ্য হিসেবে পরিনত করেছেন ওই ভূমি কর্মকর্তা। ফলে দৌরাত্ম বেড়েছে তার নিয়ন্ত্রিত পিয়ন,দালাল সিন্ডিকেটেরও। এছাড়াও আগত লেকজনের সাথে করেন চরম দুব্যবহার।
আর তার অনিয়মের প্রতিবাদ করলেই তার বোন জামাই বাড়ি ভূমি অফিসের পাশে হওয়ায় লোকজন নিয়ে মামলাসহ নানান ভাবে হুমকি দামকি দেন আগত লোকজনকে।

স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানান,উপজেলার ১নং শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন ভূমি অফিস। জমির কর দিতে অফিসের সামনে ও ভিতরে প্রতিদিন ভিড় করছেন সেবাপ্রার্থীরা। কিন্তু খাজনা আদায়,জমি রেজিস্ট্রেশন,নামজারি,জমির শ্রেণি পরিবর্তন,ভূমি অধিগ্রহণে চেক জালিয়াতি,নীতিমালা ভঙ্গ করে জমি বরাদ্দ দেওয়া,জলমহাল ইজারা,জমির মূল্যের চেয়ে বেশী কর দাবী করা,সময়মত অফিস না করা,জমিতে ঝামেলা আছে আজ হবে না কাল আসেন বলা এছাড়াও ঐ কর্মকর্তার চাহিদা মত টাকা না দিলেই করেন চরম দূব্যবহার এসব কারনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দুর দুরান্ত থেকে আসা সেবাপ্রার্থীরা। পরে দালালের মাধ্যমে সমঝতায় আসেই সকল সমস্যার সমাধান হয়।

স্থানীয় সচেতন মহল বলেন,ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম,দুর্নীতি,জালিয়াতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ভূমি খাত দুর্নীতির বিষবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। অসাধু কর্মকর্তা রঞ্জন কুমার দাসের ঘুষ বাণিজ্য’ অনিযম’ দুর্নীতি ও নিজের নিয়োজিত দালাল-কর্মচারী সিন্ডিকেটের উৎপাতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। গোটা ভূমি অফিস হয়ে উঠেছে অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়া। আর এতে করে প্রতিনিয়ত হয়রানির ও প্রতারণার শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সু দৃষ্টি কামনা করেন।

এবিষয়ে উপজেলার সীমান্তবর্তী রঙ্গাছড়া পশ্চিম এলাকা থেকে আসা আক্তার আলী (৬৮) নামে এক ভুক্তভোগী। তিনি বলেন,নিজের ৬০ শতাংশ জমির কর পরিশোধ করতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে মাসের পর মাস ঘুরতে হচ্ছে। ঘুষ না দেয়ায় কাজ হচ্ছে না। ওই ভুক্তভোগীর কথায় ‘ঠিক ঠিক’ বলে আওয়াজ তুলে সায় দিচ্ছিলেন নামজারি ও খাজনা দিতে আসা অন্যান্য সেবা প্রত্যাশীরাও। নামজারি ও খাজনার নামে এখানে অবাধে চলে ঘুষ-বাণিজ্যে।

আরেক ভোক্তবোগী রঙ্গাছড়া বাসিন্দা আক্তার আলী বলেন,আমি কিছু দিন আগে আমার পৈতৃক ৬০শতাংশ জমির কর পরিশোধ করতে ভূমি অফিসে যাই,আমার কাছে ৭৪হাজার টাকা কর দাবি করেন। মনে দুঃখ নিয়ে ফিরে আসি। পরদিন আবারো আমার জমির আংশিক খাজনা দিতে গেলে তিনি খাজনা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এবং খাজনা বাবদ আগের দিনের ৭৪হাজার টাকার পরিবর্তে ১লাখ টাকা দাবি করেন। এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন আইনে খাজনা বাবদ ১লাখ টাকা আসে।

রঙ্গাছড়া পশ্চিম মৌজায় ফজলুর রহমানের নিজ বাড়ীর ০.৫ একর জমির খাজনা বাবদ ১৩৭৯ বাংলা সন হতে ১৪২৭ বাংলা সন পর্যন্ত ৪৮ বছরের খাজনা পরিশোধ করতে দেয়া ১২ হাজার টাকা। উনাকেও মাত্র ২হাজার ৮শত টাকার রশিদ দেয়া হয়।

মরন্ডা মৌজার ৫৪ নম্বর খতিয়ানের ০.৩০ একর জমি খাজনা পরিশোধ করতে আব্দুল মন্নাফ প্রায় এক মাস আগে এ ভূমি অফিসে যান। ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রঞ্জন কুমাদ দাস ১০ হাজার টাকা দাবি করায় রাগে-ক্ষোভে গত এক মাস অফিসে আসেন নি তিনি।
অন্য উপায় না পেয়ে ৫ হাজার টাকা পকেটে নিয়ে আবারও আসলেন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। পরিচয় গোপন করে কয়েকজন সংবাদকর্মীও ছিলেন উনার সাথে। পূর্বের মতো আবার ভূমি কর্মকর্তা ১০হাজার টাকা দাবী করলেন,অবশেষে ৫হাজার টাকা খাজনা নিতে রাজি হলেন ওই ভূমি কর্মকর্তা। পরে ৫হাজার টাকা নিয়ে রশিদ দেয়া হয় ১০১০টাকার।

আরেক ভুক্তভোগী-কেরামত আলী, ব্রাহ্মনগাঁও মৌজার ৩৪০নং খতিয়ানের ০.২২৫০ একর জমির কর (খাজনা) পরিশোধ করতে তহসিলদারকে ২হাজার টাকা দেন, রশিদে দেয়া হয় মাত্র ৭৪৬টাকার।

চিকার কান্দি মৌজার জমির মালিক নবী হোসেন । তিনি বলেন,আমার ০.২৪ একর জমির খাজনা পরিশোধ করতে বেশকিছু দিন ধইরা তহসিলদারকে কইতাছি। তিনি ৮হাজার টাকা চাইছেন। আমার পরিচিত একজন’রে দিয়া সুপারিশ কইরা ৫হাজার টাকায় রাজি করছি। পুরো টাকা দিলেও রশিদে লিখছে মাত্র ৬শত ১০টাকা টাকা।

এই বিষয়ে শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার রঞ্জন কুমার দাশ বলেন,আমি কোন অনিয়ম করি নি। অনিয়ম না করে থাকলে একজনের কাছ থেকে ৫হাজার টাকা নিয়ে দু হাজার টাকার রশিদ দিলেন কেন এমন প্রশ্নের কোন সু উত্তর দিতে পারেন নি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ

© All rights reserved ©2020 mahasingh24.com Developed by PAPRHI.XYZ
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo