১৬ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ১১:২৪
ব্রেকিংনিউজ
দ. সুনামগঞ্জে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, দুলাভাইর হাতে শ্যালক খুন দ. সুনামগঞ্জে ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ৬ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা রাসেল বক্সের পিতার মৃত্যুতে আনছার উদ্দিনের শোক প্রকাশ দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশের মাস্ক বিতরণ ও সচেতনতামূলক প্রচার ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন: ওবায়দুল কাদের সুনামগঞ্জের কৃষি বিভাগের শুভংকরের ফাঁকি অসময়ে ধান কাঁটার তেলেসমাতি বিডি ফিজিশিয়ানের উদ্যোগে বৈজ্ঞানিক সেমিনার ও চিকিৎসা গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন হরতাল : দক্ষিণ সুনামগঞ্জে হেফাজতের পিকেটিং দক্ষিণ সুনামগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ দ. সুনামগঞ্জে নানা আয়োজনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন

বর্ষায় হাওর যেনো মৃত্যুপুরী, এক বছরে অর্ধশত মৃত্যু

মহাসিং ডেস্ক
  • আপডেট : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১৫৩ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনা হাওরে চলতি বছর জুন ,জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর এই ৪ মাসে নৌ দুর্ঘটনায় ৩৬ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানীর ঘটনা ঘটছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরের সুনামগঞ্জের কালিয়াকোটা হাওরের নৌকাডুবিতে নিহত হন ১০ জন। ১ বছরের হাওরে পানিতে ডুবে প্রাণ ঝড়েছে নারী শিশুসহ প্রায় অর্ধশত মানুষের। বর্ষায় হাওর যেনো মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। প্রতিকুল আবহাওয়া, অধিক বোজাই,নৌ ব্যবস্থাপনা না মানায় এমন নৌ দুর্ঘটনায় ঘটনা ঘটছে বলে মনে করছেন হাওর পাড়ের মানুষরা। হাওরে নৌকা ডুবির ঘটনায় নৌ যান চলাচলে কঠোরতা প্রদান করেছেন প্রশাসন। হাওরে নৌকা ডুবি এড়াতে ১৪ নির্দেশনা মানার বাধ্যবাদকতা প্রদান করেছেন জেলা প্রশাসন।
জানাযায়, চলতি বছরের ২৭ জন দিরাই উপজেলার কালনী নদীতে নৌকা ডুবি শিশুসহ ২ জন নিহত হন। জুলাই-আগষ্ট মাসে সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা, তাহিরপুর ও ছাতক উপজেলায় নৌকা ডুবির ঘটনায় ৫ জনের প্রাণহানি ঘটে। এদের মধ্যে ৩ জন তাহিরপুর উপজেলার। ৫ আগস্ট নেত্রকোনার মদন উপজেলার হাওরে নৌকা ডুবে ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। চলতি মাসের ৯ তারিখ সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনার মধ্যবর্তী গুমাই নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনায় নারী শিশুসহ ১২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বিয়ে বাড়িতে যোগ দিতে গিয়ে কালিয়াকোটা হাওরে নৌকা ডুবে ৬ শিশুসহ ১০জন মর্মান্ত্রিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন হাওরে বিচ্ছিন্নভাবে নৌ দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে যা সংবাদের বাহিরের থাকছে বলে জানা যায়।
হাওরে বসবাসকারী লোকজন মনে করেন, সড়কপথে পরিবহন চলাচল করার জন্য নির্দিষ্ট নিয়মনীতি থাকলেও নৌপথে চলাচলে কোন নিয়মনীতি নেই। এ কারণে ট্রলার বা নৌকাচালকরা নিজের ইচ্ছামত অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে চলাচল করে থাকেন। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে নৌ দুর্ঘটনার ঘটনা । নৌপথে এরকম দুর্ঘটনারোধ করতে ট্রলার বা নৌকার ফিটনেস যাচাই, যাত্রী ধারণ ক্ষমতা, যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য লাইফ জ্যাকেট নিশ্চত করা প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক নৌঘাট থেকে রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি যাত্রী সুরক্ষার জন্য নিয়মনীতি প্রণয়ন করাও জুেরি। তা না হলে নৌপথে প্রাণহানীর ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন হাওর বিশেষজ্ঞরা।
সুনামগঞ্জ হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, হাওরের জনপদ সুনামগঞ্জের ৬ মাসই পানি নিচে থাকে। বর্ষায় বেশিরভাগ উপজেলার মানুষের যাতায়াতের প্রধান বাহন নৌকা। হাওরের বৈরী আবহাওয়া ও নৌকা চলাচলে নৌ চলাচলে নির্দিষ্ট নিয়ম না মানায় প্রতিনিয়ত ঘটছে নৌ দুর্ঘটনা। চালক ও যাত্রীরা সচেতন হলেই নৌদুর্ঘটনা অনেকটা রোধ করা সম্ভব। সড়ক পথের মত নৌপথে নিয়ম-নীতির দরকার। যেসকল নৌকা চালক এসব মানবেন না তাদেরকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
এদিকে নৌপথে চলাচলকারী নৌ চলাচলে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে প্রচলিত আইন ও বিধি বিধানসহ বিভিন্ন নির্দেশাবলী মেনে চলতে ১৪টি নির্দেশনা প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন। এতে বলা হয়েছে- অভ্যন্তরীণ নৌযানসমূহকে সার্ভে এবং নিবন্ধন করতে হবে, সার্ভে সার্টিফিকেট (ফিটনেস) নৌযানের প্রকাশ্য স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে হবে, নিবন্ধন সনদপত্র নৌযানে রাখতে হবে, রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রকাশ্য স্থানে উৎকীর্ণ থাকবে, প্রতিটি নৌযানে আসন সংখ্যা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইফ জ্যাকেট/ভয়া যাত্রী সাধারণের হাতের নাগালের মধ্যে রাখতে হবে, আসন সংখ্যার চেয়ে অধিক যাত্রী বহন করা যাবে না, দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালক এবং সহকারী দ্বারা নৌযান চালানো নিশ্চিত করতে হবে; সাইরেন ও সার্চ লাইট/সিগন্যাল লাইট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, মালবাহী নৌযানে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত মালামাল পরিবহন করা যাবেনা, নৌযান চালকের দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার সনদ গ্রহণ করতে এবং তা নৌযান চালনাকালে সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া আবহাওয়া পূর্বাভাস মেনে নৌযান চালাতে হবে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নৌযান চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে, সকল প্রকার সংঘর্ষ ও দুর্ঘটনা এড়িয়ে নৌযান চালাতে হবে, কোনভাবেই ধারণ ক্ষমতার অধিক যাত্রী/মালামাল বা পণ্য পরিবহন করা যাবেনা মর্মে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ জানান, নৌ দুর্ঘটনা রোধে আমরা ইতোমধ্যেই ১৪টি নির্দেশনা প্রধান করেছি। ট্রলারঘাটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব নির্দেশনা টানিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যারা এসব নির্দেশনা অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ ও বাংলাদেশ বাণিজ্যিক নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ এবং প্রচলিত আইন ও বিধি মোতাবেক মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ শাস্তিদমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ

© All rights reserved ©2020 mahasingh24.com Developed by PAPRHI.XYZ
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo