১২ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ৯:৩৮
ব্রেকিংনিউজ
দ. সুনামগঞ্জে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, দুলাভাইর হাতে শ্যালক খুন দ. সুনামগঞ্জে ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ৬ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা রাসেল বক্সের পিতার মৃত্যুতে আনছার উদ্দিনের শোক প্রকাশ দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশের মাস্ক বিতরণ ও সচেতনতামূলক প্রচার ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন: ওবায়দুল কাদের সুনামগঞ্জের কৃষি বিভাগের শুভংকরের ফাঁকি অসময়ে ধান কাঁটার তেলেসমাতি বিডি ফিজিশিয়ানের উদ্যোগে বৈজ্ঞানিক সেমিনার ও চিকিৎসা গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন হরতাল : দক্ষিণ সুনামগঞ্জে হেফাজতের পিকেটিং দক্ষিণ সুনামগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভ দ. সুনামগঞ্জে নানা আয়োজনে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন

আলামত নষ্ট করতে গাড়ি আটকে রাখে ধর্ষকরা

মহাসিং ডেস্ক
  • আপডেট : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২০
  • ৬৯ বার পঠিত

আলামত নষ্ট করতে গাড়ি আটকে রাখেন আসামিরা
তিন আসামি দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁরা সেই রাতে তরুণীকে তুলে নেওয়ার পর অপরাধের বর্ণনা দেন।

সিলেটের এমসি (মুরারিচাঁদ) কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে তুলে নিয়ে প্রাইভেট কারের মধ্যে চার দফা ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে গাড়িটি ধুয়েমুছে রাখতে চেয়েছিলেন আসামিরা। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে আসছে জেনে পালিয়ে যান তাঁরা।

গতকাল শুক্রবার রাতে তরুণী ধর্ষণ মামলার আসামি সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাতে তাঁরা এসব তথ্য দেন বলে তদন্ত ও আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে।

পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষ হলে গতকাল বেলা সোয়া তিনটার সময় সাইফুর, অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলামকে সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তিনজন পর্যায়ক্রমে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথমে জবানবন্দি দেন মামলার এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি অর্জুন লস্কর। এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর প্রধান আসামি সাইফুর রহমান জবানবন্দি দেন। এই দুজনের জবানবন্দি গ্রহণ করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক (এমএম–১) মো. জিয়াদুর রহমান। রাত আটটার দিকে ৫ নম্বর আসামি রবিউল ইসলামকে আদালতে নেওয়া হয়। তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমান। জানা গেছে, রবিউল ধর্ষণে সহায়তা করেছেন বলে স্বীকার করেন। ঘটনা সম্পর্কে সাইফুর ও অর্জুনের দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে রবিউলের বর্ণনার মিল রয়েছে। রবিউলের জবানবন্দি শেষে রাত পৌনে ১১টায় তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রাতে যোগাযোগ করলে মহানগর সিলেট পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোতির্ময় সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শুধু এটুকু জানি। আসামিরা কী বলেছেন, সে বিষয়ে কিছু জানি না।’

আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিকেল পাঁচটা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা জবানবন্দি দেন সাইফুর। এরপর অর্জুন জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে সাইফুর বলেছেন, তরুণীকে আগে থেকে চিনতেন তিনি। তরুণীর সঙ্গে থাকা যুবককে চিনতেন না। ওই যুবককে স্বামী বলে পরিচয় দেন তরুণী। আসামিরা তরুণীর স্বামীর কাছে টাকাপয়সা দাবি করেন। ধর্ষণের পর অন্তত এক থেকে দেড় ঘণ্টা আসামিরা ছাত্রাবাসে অবস্থান করেন। ছাত্রাবাসে পুলিশ প্রবেশ করার আগেই খবর পেয়ে তাঁরা পালিয়ে যান। তার আগে মুঠোফোনে তাঁদের সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিষয়টি জানান।

সাইফুর জবানবন্দিতে বলেন, প্রাইভেট কারটি টিলাগড় মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিল, সেখান থেকে তারেক কারটি চালিয়ে ছাত্রাবাসে নিয়ে আসেন। এ সময় সাইফুর ও অর্জুন গাড়িতে ছিলেন। পরে মোটরসাইকেল চালিয়ে শাহ রনি তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। গাড়িতে তাঁরা তরুণীকে নিয়ে নানা রকম খিস্তি করেন। গাড়িটি নিয়ে তাঁরা এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের ১০৫ নম্বর কক্ষের সামনে আসেন। স্বামীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে সেখানেই তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়। ১০৫ নম্বর কক্ষটি মাহফুজুর রহমানের (এজাহারে ৬ নম্বর আসামি) নামে বরাদ্দ থাকলেও কক্ষটি ব্যবহার করতেন সাইফুর। কক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া পাইপগানসহ অস্ত্রগুলো তাঁর ছিল বলে জবানবন্দিতে বলেছেন।

সাইফুর ও অর্জুনের দেওয়া জবানবন্দির অনেক তথ্যের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে ঘটনার পর তরুণীর স্বামীর দেওয়া ঘটনার বর্ণনাও। গত ২৬ সেপ্টেম্বর তরুণীর স্বামী প্রথম আলোকে বলেছিলেন, টিলাগড় মোড়ে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী গাড়িতে বসে খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন যুবক তাঁদের জিম্মি করে ফেলেন। আসামি তারেক (পরে নাম জেনেছেন) তাঁর কাছ থেকে স্টিয়ারিং কেড়ে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে ছাত্রাবাসে যান। এ সময় গাড়িতে বসে ছিলেন দুজন (সাইফুর ও অর্জুন), পেছনে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসেন একজন (শাহ রনি)। ছাত্রাবাসের সামনে নিয়ে প্রথমে টাকা দাবি করেন। তারপর স্বামীকে নামিয়ে আটকে রেখে তরুণীকে গাড়িতে ধর্ষণ করা হয়। পরে তরুণীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে কক্ষে নিয়ে যান, আবার গাড়িতে নিয়ে আসেন। এভাবে কয়েকবার আনা–নেওয়া করেন বলে জানিয়েছিলেন স্বামী।

ছাড়া পাওয়ার পর স্বামী-স্ত্রী দুজনে ওই রাতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে টিলাগড় মোড়ে যান। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিহিত গুহ চৌধুরীর (বাবলা চৌধুরী) কাছে ঘটনার কথা জানান বলে তরুণীর স্বামী বলেছিলেন। পরে বাবলা চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেছিলেন, তিনি ঘটনাস্থলে যান। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ছাত্রাবাসে দেখেন। তখন পর্যন্ত তরুণীর স্বামীর গাড়িটি সেখানেই ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ এলেও ছাত্রাবাসের ফটকে কলেজ কর্তৃপক্ষের অনুমতির অপেক্ষায় ছিল। এরই মধ্যে খবর পেয়ে আসামিরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ গিয়ে গাড়ি এবং সাইফুরের কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করে।

ধর্ষণের রাতের ঘটনার বর্ণনা দিলেন ভুক্তভোগী তরুণী
ধর্ষণের রাতের ঘটনার বর্ণনা দিলেন ভুক্তভোগী তরুণী
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, জবানবন্দিতে সাইফুর ও অর্জুন দুজনেই বলেছেন, বাবলা চৌধুরী তাঁদের দেখে ফেলার পর গাড়িটি পরিষ্কার (ধর্ষণের আলামত নষ্ট করে) করে পালাতে চেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই সোহেল) ঘটনাস্থলে আসছেন দেখে তাঁরা পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে গত রাতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে শাহপরান থানার এসআই সোহেল রানা প্রথম আলোকে বলেন, তিনি যদি ওই সময় না যেতেন, তাহলে গাড়িটি ধুয়েমুছে আলামত নষ্ট করে পালাতেন আসামিরা। ধর্ষণের আলামত তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংরক্ষিত করেন। পরে কক্ষে সাইফুরের অস্ত্রশস্ত্র দেখতে পান।

করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দখল করা একটি কক্ষের সামনে গত ২৫ সেপ্টেম্বর সদ্য বিবাহিত তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, শাহ মো. মাহবুবুর রহমান ওরফে শাহ রনি, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে তিন দিনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ছয়জনসহ আটজন গ্রেপ্তার হন। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, মাহফুজুর ছাড়া অন্য সবাই ছাত্রাবাসে বহিরাগত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, গত সোমবার সাইফুর, অর্জুন ও রবিউলকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর মঙ্গলবার সন্দেহভাজন দুই আসামি আইনুদ্দিন ও মিসবাউর রহমান ওরফে রাজনকে এবং সর্বশেষ পর্যায়ে গ্রেপ্তার হওয়া শাহ মো. মাহবুবুর, তারেকুল ও মাহফুজুরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। আজ শনিবার আইনুদ্দিন ও মিসবাউরের রিমান্ড শেষ হওয়ার কথা।

সুত্র : প্রথম আলো

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ

© All rights reserved ©2020 mahasingh24.com Developed by PAPRHI.XYZ
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo