২৬শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রাত ৪:৫০
ব্রেকিংনিউজ
সাংবাদিক হোসাইনের পিতার ইন্তেকাল, প্রেসক্লাবসহ সুধীজনদের শোকপ্রকাশ কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি আনছার উদ্দিনের ঈদ শুভেচ্ছা ঈদে শপিং করে ফেরার পথে স্পিডবোট ডুবে মা-মেয়ের মৃত্যু পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নূর কালামের ঈদ শুভেচ্ছা পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুর রহমান শহিদের ঈদ শুভেচ্ছা দ. সুনামগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সুহেল মিয়ার ঈদ শুভেচ্ছা দ. সুনামগঞ্জ মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি ও আফাজল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. শাকিল মুরাদ আফজলের ঈদ শুভেচ্ছা আফজল ফাউন্ডেশন যাকাতের শাড়ি পেলেন ৯০ জন দুঃস্থ নারী যুক্তরাজ্য প্রবাসী এহসান মির্জার ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা বিনিময় ফ্রান্স প্রবাসী ক্রিড়াবিদ আতিকুর রহমানের ঈদ শুভেচ্ছা

দক্ষিণ সুনামগঞ্জে কাজ না করে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, হামলায় গুরুতর আহত বাদি ন্যায় বিচার নিয়ে শঙ্কিত

বিশেষ প্রতিবেদক
  • আপডেট : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪১০ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদক :
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তার মাটি ভরাট প্রকল্পে কাজ না করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ইউপি সদস্য কর্তৃক হামলায় গুরুতর আহত বাদি ন্যায্য বিচার প্রাপ্তি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। সেইসাথে বিবাদিকে রক্ষায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অফিসের একটি চক্র তৎপর রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ‘আলমপুর মছদ্দরের বাড়ি হতে ভুলনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার মাটি ভরাট প্রকল্পে’ কাজ না করে সরকারের বরাদ্দ দুই লাখ টাকা আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্য এহিয়া আহমদ সুমনের বিরুদ্ধে। ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এই লিখিত অভিযোগ দেন আলমপুর গ্রামের মৃত সুজনুল ইসলামের ছেলে আমির হোসেন জুনেদ।

২৫ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগ তদন্তের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দায়িত্ব প্রদান করেন। ভূমি কর্মকর্তা সৈয়দা শমসাদ বেগম অভিযোগ সরেজমিন তদন্ত করতে গিয়ে বাদী-বিবাদী ও এলাকার গণ্যমান্য বক্তিবর্গের সাক্ষ্য গ্রহণপূর্বক ‘কাজ না করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের’ অভিযোগের সত্যাতা পান। ৫ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তিনি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, “তদন্তকালে বাদী-বিবাদী, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত লোকদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান যে, উক্ত প্রকল্পের বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে রাস্তার কোনো কাজ হয়নি। সরেজমিনে নিম্ন স্বাক্ষরকারীর নিকট কোন রাস্তা দৃশ্যমান পরিলক্ষিত হয়নি। এছাড়া এই প্রকল্প কমিটির সদস্যদের শুনানী গ্রহণকালে তারা দাবি করেন, তাদের স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এই বিষয়ে (টাকা উত্তোলন) তারা অবগত ছিলেন না।”
তদন্ত প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে,“এমতাবস্থায় পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডেত্তা সদস্য জনাব এহিয়া আহমদ সুমনের বিরুদ্ধে আনীত রাস্তা নির্মাণ না করে দুই লাখ টাকা উত্তোলন করার অভিযোগটির সত্যতা রয়েছে। যা সরেজমনি তদন্তকালে প্রমাণীত হয়।”

এদিকে, ১৯ নভেম্বর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর তদন্ত প্রতিবেদনের সাথে ‘একমত পোষণক্রমে’ দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেলা প্রশাসকের নিকট উক্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। ১০ ডিসেম্বর ‘ইউপি সদস্য কর্তৃক প্রকল্পের টাকা আত্মসাত যা স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর বিধি ৩৪ এর ৪(খ) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ উল্লেখ করে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের নিকট তদন্ত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে সুপারিশ পাঠান জেলা প্রশাসক।

অপরদিকে, সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ‘প্রকল্পের কাজ না করে জাল স্বাক্ষরে অর্থ উত্তোলণপূর্বক আত্মসাতের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায়’ স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর বিধি ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড সদস্য এহিয়া আহমদ সুমনকে সদস্য পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ ইফতেখার আহমদ চৌধুরী প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।

অভিযোগকারী জুনেদ বলেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত এক পত্রের আলোকে অবগত হই যে, ‘কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবের আলোকে সুস্পষ্ট মতামত প্রদানের নিমিত্তে শুনানী গ্রহণ’ অনুষ্ঠিত হবে। শুনাণিতে আমাকে অংশ নিতে বলা হয়। শুনানী অংশ গ্রহণের প্রস্তুতির প্রাক্কালে গত বৃহস্পতিবার প্রভাবশালী বিবাদী দ্বারা হামলার শিকার হয়ে আমি ও আমার আত্মীয়-স্বজনসহ ৮ জন গুরুতর জখম হই।
তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে বিভিন্ন সূত্রে জানতে পারি যে, বিবাদীকে রক্ষা করতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন অফিসের অসাধু একটি চক্রের যোগসাজসে পূর্বে দাখিলকৃত ‘প্রকল্পের ভূয়া ছবি’ পরিবর্তন করা হতে পারে। এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের কাজ না করে জাল স্বাক্ষরে অর্থ উত্তোলণপূর্বক আত্মসাতের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায়ার পর বিবাদীকে অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দেওয়ার আশঙ্কা করেন তিনি।

সোমবার দুপুরে এ সংক্রান্ত একটি আবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে করেছেন অভিযোগকারী আমির হোসেন জুনেদ।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, ‘আলমপুর মছদ্দরের বাড়ি হতে ভুলনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার মাটি ভরাট প্রকল্পে’ কাজ না করে সরকারের বরাদ্দ দুই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সংক্রান্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার নির্দেশনার ভিত্তিতে ‘কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবের আলোকে সুস্পষ্ট মতামত প্রদানের নিমিত্তে শুনানী গ্রহণ’ অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, “সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এই শুনানী গ্রহণ করা হবে। এখানে সকল পক্ষকে সমান দৃষ্টিতে দেখা হবে।”

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ

© All rights reserved ©2020 mahasingh24.com Developed by PAPRHI.XYZ
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo