১৯শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ বিকাল ৩:৫৫
সর্বশেষ সংবাদ

বাউল সম্রাটের চিরপ্রস্থানের ১২ বছর, নেই আনুষ্ঠানিকতা

বিশেষ প্রতিবেদক
  • আপডেট রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৮৮ Time View

শহিদ নুর আহমদ : বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১২ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’, বন্ধে মায়া লাগাইছে,  ‘বসন্ত বাতাসে সইগো, কোন মেস্ত্ররী নাউ বানাইলো কেমন দেখা যায় সহ অসংখ্য কালজয়ী বাউল গান রচনার মাধ্যমে বাউল সম্রাটের তকমা পেয়েছিলেন তিনি।

তবে ভাটির জনপদের এই বাউল সম্রাটের প্রয়াণ দিবসে নেই কোন ধরনের আনুষ্ঠানিকতা। বলা যায় সাদামাঠা ভাবে পালিত হচ্ছে বাউল সাধকের মৃত্যু দিবস। করোনা প্রার্দুভাবের কারনে অনলাইনে সীমিত পরিসরে বাউল সম্রাট আব্দুল করিমের প্রয়ান দিবস পালন করবে জেলা শিল্পকলা একাডেমি।

এদিকে, রাষ্ট্রীয়ভাবে বাউল সম্রাটের জন্ম ও মৃত্যু দিবস পালন করার পাশাপাশি তাঁর গানের সংরক্ষণে গানের বিদ্যালয় বা বাউল একাডেমি স্থাপনের দাবি তার ভক্ত ও সংস্কৃতিকর্মীদের।

বাউল সাদকদের গান সংগ্রহ ও গবেষণায় বাউল একাডেমী স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির সংশ্লিষ্টরা। তবে বাবার শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী নিজ বাড়ীতেই বাউল একাডেমি স্থাপনের দাবি করিম পুত্র শাহ নূর জালালের।

ভাটির জলজোৎস্না, হাওয়া, মাটির গন্ধ, কালনী তীরবর্তী জনজীবন, মানুষের চিরায়িত সুখ-দুঃখ, দারিদ্র্য-বঞ্চনা, লোকাচার প্রভৃতি বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের গানে উঠে এসেছে। দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে বাউল ও আধ্যাত্মিক গানের পাশাপাশি ভাটিয়ালি গানেও দখল ছিল তার।

তিনি ১৬০০-এর বেশি গান লিখেছেন ও সুর করেছেন। একুশে পদকপ্রাপ্ত কিংবদন্তি এই লোকশিল্পীর জন্ম ও মৃত্যু দিবস এলেই ভাটি অঞ্চলের গ্রামীণ বাউলসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সংস্কৃতিকর্মীরা ভিড় জমান উজানধল গ্রামে।

কিন্তু এবার ১২ তম প্রয়ান দিবস উপলক্ষ্যে নিজ বাড়িতে ক্ষুদ্র পরিসরে মিলাদ মাহফিল ও ঘরোয়া পরিবেশে বাউল গানের আসর ছাড়া তেমন কোন আয়োজন নেই। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সংক্রমণের অজুহাতে মৃত্যু দিবসে কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই জেলা শিল্পকলা একাডেমির। দায় সারতে অনলাইনে স্মরণ করা হবে বলে জানা যায়।

বাউল সম্রাাটের শেষ স্বপ্ন তার বাড়িতে স্থাপিত গানের বিদ্যালয়টি সরকারি ব্যবস্থাপনায় ঘরে তুলার দাবি স্থানীয় সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিদের। দাবিটি সরকারের বিভিন্ন মহলে উঠে আসলেও উপেক্ষিত থাকছে বাউল সাধক আব্দুল করিমের গানের বিদ্যালয়ের বিষয়টি। সংস্কৃতিকর্মীরা মনে করেন, চর্চা ও গভেষণার অভাবে এবং বেপরোয় আকাশ সংস্কৃতির কারনে বিকৃত হচ্ছে বাউল করিমের গানের প্রকৃত সুর। সস্তা জনপ্রিয়তার আশায় অনেক শিল্পী ইচ্ছে মতো পাল্টিয়ে ফেলছেন গানের কথা ও সুর। তাই সংস্কৃতি চর্চা ও করিমের রচয়িত গানের প্রকৃত সুর রক্ষায় গানের বিদ্যালয় আদলে বাউল একাডেমি স্থাপনে সরকারের সংশ্লিষ্ট মলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংস্কৃতি কর্মীরা।

থিয়েটার সুনামগঞ্জের দলনেতা দেওয়ান গিয়াস বলেন, বাউল আব্দুল করিমের গানে মা, মাটি, দেশ কথা রয়েছে। সমাজ ও জীবন কর্মের সর্বত্র আব্দুল করিমের গান বিরাজমান। দিন আব্দুল করিমের গানে সুর ও কথা পরিবর্তন হচ্ছে। বিভিন্ন শিল্পী ও টিভি চ্যানেলে ইচ্ছেমতো গাওয়া হচ্ছে করিমের গান। যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়।

সংস্কৃতিকর্মী কে.জি মানব বলেন, বাউল করিম কেবল সুনামগঞ্জের সম্পদ নয়, তিনি বাংলাদেশ তথা বিশ্ব লোক সাহিত্যের সম্পদ। করিমের গানের প্রকৃত সুর রক্ষা ও গভেষণায় একটি একাডেমি নির্মাণ করা প্রয়োজন।

বাউল করিমের পুত্র শাহ নূর জালাল বলেন, আমার বাবা ছিলেন একজন গরিব ও সাধারণ মানুষ। তাই তার গানে খেটে খাওয়া মানুষের কথা উঠে এসেছে। তাঁর গান নিপীড়িত মানুষের পক্ষে কথা বলেছে। সমাজনীতি, রাজনীতি, দর্শন, আধ্যাতিকতা কোনো ক্ষেত্রে নেই যেখানে তিনি বিচরণ করেনি। গান চর্চায় বাবার জীবদ্দশায় একটি সংগীত বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন। বাবা মৃত্যুর আগে বলে গিয়েছিলেন তাঁর স্মৃতি সরকার যদি কোনো স্থাপনা করে দেয় তাহলে তাঁর বাড়িতেই যেনো দেন। সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে যে বাউল একাডেমি নির্মাণ হবে তা যেনো আমাদের নিজ গ্রামেই স্থাপন করা হয়।

জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শামছুল আবেদীন বলেন, গান সংরক্ষণের পাশাপাশি বাউল একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। একাডেমির জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করছি আগামী অর্থ বছরে এর নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে জানানা তিনি।

 

ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের অন্যান্য সংবাদ
Developed by PAPRHI
Theme Dwonload From Ashraftech.Com
ThemesBazar-Jowfhowo